মো. রবিউল হোসেন, মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি):-
আগুনরঙ্গা কৃষ্ণচূড়া ভালোবাসায় রাঙিয়ে রেখেছে খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার কেন্দ্রবিন্দু আমতলকে। চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের গাড়িটানা হতে গচ্ছাবিল পর্যন্ত কালো পিচের রাস্তাজুড়ে চোঁখে পড়বে দুই শতাধিক রক্তলাল কৃষ্ণচূড়া গাছ। রাস্তার দু’পাশে উঁচু ডালে থোকায় থোকায় কৃষ্ণচূড়ার রঙ। লাল, হলুদ এবং কমলার মিশ্রণে প্রকৃতিকে সাজিয়েছে এক অপরূপে।
প্রখর রোদে পোড়া প্রকৃতি যেন নিজেও তার প্রাণ ফিরে পায় কৃষ্ণচূড়া ফুল ফোটার মাঝে। উষ্ণ আবহাওয়ায় দৃষ্টি ও মনকে শান্তির পরশ বুলিয়ে দিতে কৃষ্ণচূড়া ফুলের কোনো জুড়ি নেই। গ্রীষ্মজুড়ে পাতাহীন গাছেও অজস্র ধারায় ফুল ফোটে। প্রকৃতির এই রুক্ষ-শুষ্ক মৌসুমে কৃষ্ণচূড়া আসে মানব মনকে শীতল পরশ বোলাতে, ক্লান্তি দূর করে নব উদ্যমে জাগিয়ে তুলতে।
চোঁখ জুড়ানো দৃষ্টিনন্দন এই পরিবেশ জন্ম নিয়েছিলো বছর কয়েক আগে। নতুন ভাবনায় নতুন উদ্যোমে প্রকৃতি সৃষ্টি করেছে আত্ম-মানবতার সেবায় নিয়োজিত এক ঝাঁক রক্তযোদ্ধা তরুণ-তরুনী। “মানিকছড়ি ব্লাড ডোনার্স এসোসিয়েশন” নামে গড়ে তোলা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত জমানো অর্থ জড়ো করে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণস্থানসহ সড়কের দু-পাশে রোপন করেছিলো দুই শতাধিক কৃষ্ণচুড়ার চারা। যা আজ রং মেলেছে প্রকৃতিতে। সৌন্দর্য বিলানো ছাড়াও গাছগুলো গ্রীষ্মকালে ছায়া দিতে বিশেষভাবে পারঙ্গম।
মানিকছড়ি ব্লাড ডোনার্স এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা এডমিন মো. খালেদ হাসান বলেন, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে আমরা কয়েকজন বন্ধুরা মিলে উপজেলায় রক্তের চাহিদা মেটাতে “মানিকছড়ি ব্লাড ডোনার্স এসোসিয়েশন” নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করি। প্রতিষ্ঠার পর সেচ্ছায় রক্তদান, বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক ও মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলাম। প্রতিষ্ঠা বছরের অক্টোবর মাসে ভিন্নধর্মী উদ্যোগে সংগঠনের সদস্যদের হতে অর্থ সংগ্রহ করে প্রতি শুক্রবার উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিভিন্ন জাতের চারা রোপন কার্যক্রম শুরু করি। এরই অংশ হিসেবে উপজেলার (চট্টগ্রাম- খাগড়াছড়ি) সড়কের গাড়ীটানা, বড়ডলু, তিনটহরী, গচ্ছাবিল ও মানিকছড়ি সদর আমতলে দুই শতাধিক কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগানো হয়েছে। যা এখন প্রকৃতিকে সাজিয়েছে এক অপরূপে।
এছাড়াও প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সংগঠনের পক্ষ থেকে কৃষ্ণচূড়া ছাড়াও বিভিন্ন উন্নত জাতের সহস্রাধিক ফলদ, বনজ ও ঔষুধি গাছের চারা রোপন করা হয়েছে। যা এখন পূর্ণাঙ্গ গাছে পরিনত হয়েছে বলে জানিছে সংগঠনের অন্যতম এডমিন মো. মাঈন উদ্দিন রাফি।