নিজস্ব প্রতিবেদক:-
অবশেষে দূর্লভ রেড সেরো বা অনেকের মতে সাম্বার হরিণ শাবকটি সোমবার সকাল ১০ টায় জুরাছড়ি বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকতা সুরুজ কান্তি চাকমার নিকট হস্তান্তর করেছে, রাঙ্গামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলার, ১ নং জুরাছড়ি ইউনিয়নের, বারুচগোলা গ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ।
এ বিষয়ে সেভ দ্যা ন্যাচার অফ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আ.ন.ম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন গত ৮ ই মে বিনু চাকমার একটি ফেসবুক গ্রুপের পোষ্টের বিষয়ে তথ্য জানায় পটুয়াখালীর এইছ এম শামীম, পোষ্ট দেখে তাকে কমেন্টস করতেই সে পোষ্ট রিমুভ করে ভয় পেয়ে, তার লক করা প্রোফাইলের ছোট আংশিক ছবিটি নিয়ে তাকে সনাক্ত করার চেষ্ট করতে থাকি, বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশবাদী আমাদের সংগঠন ও বিভিন্ন পরিচিত জনদের মাধ্যমে। অবশেষে ৮ ই মে রাত ৮ ঘটিকার সময় রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলা শাখার সেভ দ্যা ন্যাচার অফ বাংলাদেশ’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওয়াসিম উদ্দিন মামুন ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার ছাত্রনেতা আনোয়ার হোসেন কায়সারের সহযোগিতায় রাতেই বিনু চাকমার অবস্তান সনাক্ত করা হয় ও গতকাল রাঙ্গামাটি দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকতা রফিকুজামান শাহ্ এর সাথে পরামর্শ ক্রমে, বন বিভাগের স্থানীয় রেঞ্জ কর্মকতা সহ আমাদের সংগঠনের প্রতিনিধিরা রাঙ্গামাটি পৌরসভার ঐ এলাকাতে যায়। বিনু চাকমার নিকট হরিন টি আছে মনে করে বন বিভাগ সহ অভিযানে গেলেই জানা যায় হরিণ শাবকটি রাঙ্গামাটি জেলার দুর্গম জুরাছড়ি উপজেলার বারুচগোলা গ্রামে রয়েছে তার বান্ধবী সোনাবী চাকমার বাড়িতে। বিনু চাকমা ও সোনাবী চাকমা দুজনই বি কে এস পি দলের ফুটবল প্লেয়ার এবং এনিম্যাল লাভার, তার সুবাদে সোনাবী এই প্রানীটির ছবি গুলো দিয়েছিল যা সে পোষ্ট করে জানতে চেয়েছিল এটি হরিণ নাকি গাধাঁ।
ইতিমধ্যে বন বিভাগ দক্ষিণ থেকে এই বিষয়টি স্পেশাল দায়িত্ব দেওয়া হয় ঐ অঞ্চলে দীর্ঘদিন কাজ করা ও ঐ অঞ্চল সম্পর্কে অভিজ্ঞ গঙ্গা প্রকাশ চাকমা কে। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান সহ জন প্রতিনিধিদের মাধ্যমে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে থাকে।
অন্যদিকে আমরা সেই ১ নং জুরাছড়ি ইউনিয়নের বারুচগোলা গ্রামের সোনাবী চাকমার সাথে সরাসরি ফোনে কথা বলে বুঝিয়ে বলি কেন তাকে রক্ষা করা প্রয়োজন ও যে কোন দূর্ঘটনার দ্বায় তাদের উপর বর্তাবে। রাতেই সে আমাদের কিছু তথ্য ও ছবি দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করে। তাদের যত দ্রুত সম্ভব বাচ্ছাটি বন বিভাগের নিকট হস্তান্তর করার জন্য অনুরোধ করি।
যার পরিপ্রেক্ষিতে আজ সকাল দশটায় জুরাছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তার নিকট তারা প্রাণীটি হস্তান্তর করে।
কাপ্তাই উপজেলা সেভ দ্যা ন্যাচার অফ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওয়াসিম উদ্দিন মামুন আমাদের জানান অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও এই বন্যপ্রাণীটি উদ্ধারে যারা সর্বোচ্ছ চেষ্টা করেছেন তাদের সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। এবং বিশেষ করে কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান আ.ন.ম মোয়াজ্জেম হোসেন ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার উদীয়মান ছাত্রনেতা আনোয়ারা হোসেন কায়সারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। তাদের সর্বোচ্ছ চেষ্টায় হরিণ শাবকটি উদ্ধারের ফসল।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান আ.ন.ম মোয়াজ্জেম হোসেন সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন
আমরা সকলে সচেতন ভাবে নিজেদের দ্বায়বদ্বতা থেকে আনোয়ার হোসেন কায়সার ও ওয়াসিম উদ্দিন মামুনের মতন দায়িত্ব নিয়ে বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় এগিয়ে আসলে পরিবেশ প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র রক্ষায় আমরা নতুন রেকর্ড গড়ে তুলতে পারব। যে কোন অসম্ভব কে সম্ভব করতে পারবো