মো:নাজমুল হোসেন রনি:
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রকল্পের অধীনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর কর্তৃক ১৩ ই ফেব্রুয়ারী ২০২১ খ্রিঃ একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) এর শিক্ষক বাতায়নের রাঙ্গামাটি জেলার আইসিটি অ্যাম্বাসেডর নিযুক্ত হয়েছেন , নানিয়ারচর উপজেলার বগাছড়ি পুনর্বাসন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জনাব সোহেল রানা।

তিনি নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটের কৃতি সন্তান ,জনাব মোঃ সেলিম আকন লিডার ও মাতা আমেনা বেগমের একমাত্র ছেলে। এই গুনী সহকারী শিক্ষক ২০১৮ সালে পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি বিভাগীয় পর্যায় হতে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে একক অভিনয়ে কৃতিত্বের সাথে ১ম স্থান অধিকার করেছেন। নানিয়ারচর উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর জনাব সরওয়ার কামাল ,উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার জনাব অংহ্লাপ্রু মারমা এবং উপজেলা পরিষদের সম্মানিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জনাব আসমা আক্তার,এই গুণী শিক্ষকের কৃতিত্বের কথা উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করলে বিষয়টি খুব নজরে আনেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব শিউলি রহমান তিন্নী কর্মকর্তাদের কথা বিবেচনায় রেখে জনাবা শিউলি রহমান তিন্নী ২৮ মার্চ ২০২১ খ্রিঃ মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরন এর এক সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে জনাব সোহেল রানাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।
এই গুণী শিক্ষককে সম্মাননা প্রদান কালে উপস্থিত ছিলেন নানিয়ারচর উপজেলার জোন কমান্ডার গোলাম মাবুদ হাসান (পিএসসি), নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রগতি চাকমা ,উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নুর জামাল হাওলাদার, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার ,নানিয়ারচর থানা ইনচার্জ মো:সাব্বির রহমান ।
এছাড়া উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,নানিয়ারচর উপজেলা রিসোর্স সেন্টার ইন্সট্রাক্টরসহ ,প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক সমিতির শিক্ষকবৃন্দ। আইসিটি অ্যাম্বাসেডর জনাব সোহেল রানা প্রতিবেদক কে জানিয়েছেন, ১৩ই ফেব্রুয়ারী ২০২১ খ্রীঃ তিনি যখন অ্যাম্বাসেডরের দায়িত্ব তখন নানিয়ারচরে ৭২ টি বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষক ৩২৪ জনের মধ্যে নানিয়ারচর উপজেলায় শিক্ষক বাতায়নে সদস্য ছিল মাত্র ১৮ জন। এখন নানিয়ারচর উপজেলায় ৭২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬৭ টি বিদ্যালয়ের ২২৩ জন শিক্ষক , শিক্ষক বাতায়নের সদস্য হয়েছেন ,তিনি আশাবাদী যে বাকি বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকগণ সদস্য হয়ে যাবেন।
এতো অল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষকগণ বাতায়নের সদস্য হয়েছেন তার পিছনে বিশেষ অবদান রয়েছে, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জনাব মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ও জেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার জনাব পরিণয় চাকমা এবং জেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার জনাব মোঃ রবিউল হোসেন , নানিয়ারচর উপজেলা রিসোর্স সেন্টার এর সম্মানিত ইন্সট্রাক্টর জনাব সরওয়ার কামাল , সম্মানিত সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার জনাব অংক্রাচিং মারমা এবং সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার জনাব অংহ্লাপ্রু মারমা প্রমূখ।
তিনি আরো জানান , নানিয়ারচর উপজেলার প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকগণের সহায়তা নিয়ে বাতায়নের কাজকে আরো বেশি গতিশীল ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, তার সাথে যে শিক্ষকগণ বাতায়নে সদস্য হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন তাঁরা হলেন,জনাব মনতোষ দত্ত-সহকারী শিক্ষক,তৌহিদুল ইসলাম আকাশ-সহকারী শিক্ষক , সোহেল চাকমা -সহকারী শিক্ষক।
আইসিটি অ্যাম্বাসেডর সোহেল রানা একটি বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন , যে সকল গুণী শিক্ষকগণ ১২ দিনের হাতে খড়ি আইসিটি প্রশিক্ষণ পেয়ে থাকেন , কিছুদিন যাওয়ার পর তা চর্চা না থাকায় সে সকল বিষয় আর কোন শিক্ষকের মনে না থাকারি কথা।
কারণ প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরে ঐ সকল শিক্ষকগণ নিজেকে আর সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পারেন না।এছাড়া রয়েছে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাট, বিদ্যালয়ে ও নিজের ল্যাপটপ ,ডেস্কটপ না থাকায় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণাদির স্বল্পতা,নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে ঠিক মত কাজ করা যায় না ।
প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ঐ শিক্ষকদের দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণ বিহীন অন্যান্য শিক্ষকদের হাতে কলমে ইউআরসি ও বিদ্যালয় ভিত্তিক ICT in Education ( শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) বিষয়ে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারলে সকল শিক্ষক শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠবেন,ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও ডিজিটাল কনটেন্ট ভিত্তিক পাঠদানে সক্ষমতা লাভ করা সম্ভব।
বর্তমানে কোভিড-১৯ এর অতিমারীতে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) কর্তৃক অন্তবর্তীকালীন পাঠ পরিকল্পনা মোতাবেক কন্টেন্ট তৈরি করে অভিন্ন পাঠ পরিচালনায়ও শিক্ষকগণ সক্ষম হয়ে গড়ে উঠবেন।
বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষ দৃষ্টিতে দেখবেন বলে আশাবাদী,এবং তিনি আরো জানিয়েছেন,এটুআই কর্তৃক শিক্ষক বাতায়নের এতোবড় মহৎ কাজে অংশগ্রহনের সুযোগ করে দিয়েছেন সকলের প্রতি রইল আমার কৃতজ্ঞতা ।