সরওয়ার কামাল,মহেশখালী,কক্সবাজার :
হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল মহেশখালীর লবণ মাঠের চিত্র। তার সাথে কালবৈশাখী ও দমকা হাওয়ায় নুইয়ে পড়েছে বোরো ধানের ক্ষেত। এতে ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে চাষিরা। ১৭ই এপ্রিল) সকাল ৮টায় কক্সবাজারসহ উপকূলে ঝড়ো হওয়ায় কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে উপকূলের লবণের মাঠ। একদিকে লবণের মূল্য নেই অন্যদিকে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে থেমে দিয়েছে লবণ উৎপাদন। মহেশখালীর উপকূল জুড়ে কর্মব্যস্ত লবণ চাষীরা জানান, হঠাৎ ঝড়ো হওয়া ও কালবৈশাখীর কারণে মুহূর্তের মধ্যে জমিতে থাকা লবণ মাটির সাথে মিশে যায়। তাছাড়া বেশ কিছু স্থানে লবণ মজুদ করার সময় বৃষ্টির কারণে তারা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অপরদিকে মহেশখালীর অধিকাংশ স্থানে বর্তমানে বোরো ধান কাটার মৌসুম। হঠাৎ প্রবল বেগে প্রবাহিত কালবৈশাখীতে তারাও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানিয়েছে চাষিরা।
তবে এ ব্যাপারে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সালাহ উদ্দীন বলেন, ‘এ বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে তেমন ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম কারণ যখন ধানের মধ্যে ফুল আসে তখন যদি বাতাস প্রবাহিত হয় তখন ক্ষতি হয় প্রচুর।’তবে পাকা ধান কাটার আগে কালবৈশাখী ঝড়ে ধান মাটিতে পড়ে যাওয়ায় কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি তো হয়েছে। এদিকে মহেশখালীর কালারমার ছড়া,মাতারবাড়ি,ধলঘাটা,কুতুবজোম,হোয়ানক,বড় মহেশখালী,শাপলাপুর,ছোট মহেশখালী ও গোরকঘাটায় লবণ চাষ হয়ে থাকে।
বড় মহেশখালীর লবণ চাষী মোঃ ইউসুফ বলেন, ‘ হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও কালবৈশাখী শুরু হওয়ায় মাঠের অধিকাংশ লবণ মাটির সাথে মিশে যায়। আমরা লবণ মাটে আসার আগেই কালবৈশাখীর তান্ডবে লবণ উৎপাদনের পলিথিন ছিঁড়ে যায়। আমাদের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। মাতারবাড়ির হন্দ্রারাবিলের লবণ চাষী গফুর বলেন, একদিকে উৎপাদিত লবণের দাম না পেয়ে লোকসানে আছি অন্যদিকে কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে লবণ, লবণ মাঠ,ও পলিথিন ক্ষয়ক্ষতি হয়ে পথে বসে ছাড়া আর উপায় নেই। ধলঘাটার সুতরিয়ার বাসিন্দা লবণ চাষী কামাল জানান,কালবৈশাখীর তান্ডব শুরু হলে উৎপাদিত প্রায় ৬০মন লবণের টাল(স্তুুপ) রক্ষা করতে দৌঁড়ে এসেও রক্ষা করতে পারিনি, এছাড়াও লবণ মাঠে অনেক ক্ষতি হয়েছে।
লবণ উৎপাদন করতে আরও কয়দিন সময় লাগে জানি না বলে হতাশ হয়ে পড়েন।
চলতি মৌসুমে দেশে লবণের মোট চাহিদা রয়েছে ১৮ লক্ষ ৪৯ হাজার মেট্রিক টন। আর লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সাড়ে ১৮ লক্ষ মেট্রিক টন। ঝড় বৃষ্টি না হলে আগামী মে মাস পর্যন্ত এ লবণ উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে চাষীরা জানান। হোয়ানক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, ‘হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হওয়ায় চাষীরা মাঠে যাওয়ার আগেই বৃষ্টিতে লবণগুলো মাটির সাথে মিশে যায়।’ তাছাড়া বোরো ধানেও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানা যায়। বেশ কিছু কাঁচা বাড়ির ঘরের চালাও উড়ে যায় বলে জানান তিনি।