আলীকদম(বান্দরবান)প্রতিনিধি:
প্রবারণা পূর্নিমার বাধ ভাঙ্গা জোসনার আলোতে শতশত ফানুস বাতির ঝিলিক। আতশবাজিতে উজ্জল রাতের আকাশ। অন্যদিকে মারমা তরুন তরুনীদের মুখে মুখে “ছংরাসিহ্ ওয়াগ্যোয়াই লাহ্ রাথা পোয়ে: লাগাইমে” (অর্থাৎ ওয়াগ্যোয়াই এসেছে, এসো সবাই মিলেমিশে রথযাত্রায় যাই)। মারমা এই গানের সুরের মুর্ছনায় মুখরিত বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার মার্মা পল্লীগুলোতে।
প্রবারণা পূর্ণিমায় ওয়াগ্যোয়োই পোয়েঃ এর কল্প জাহাজ (রথ)যাত্রা উৎসবে মারমা তরুন তরুনীরা এই গানটি গেয়ে রথ টেনে নিয়ে যায়, আজ সোমবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আলীকদম কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারের মাতামুহুরি নদীর ঘাটে ছিল উৎসবের মিলন মেলা। মাঠ থেকে শতাধিক ফানুস বাতি উড়ানো হয়।
কল্প জাহাজ (রথ) বির্সজন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলীকদম কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারের বিহার অধ্যক্ষ উ ওয়ানিকা মহাথের ভান্তের সভাপত্বিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেঃ কর্ণেল মোঃ সাব্বির হাসান পিএসসি, আলীকদম সেনাজোন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহরুবা ইসলাম, জেলা পরিষদের সদস্য ও সাঃ সম্পাদক দুংড়ি মং মার্মা,আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি নাছির উদ্দীন সরকার,উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ জামাল উদ্দিন,জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অংশৈ থোয়াই মার্মা,আলীকদম সদর ইউপি চেয়ারম্যান নাছির উদ্দীনসহ প্রমূখ।
প্রবারণা পূর্ণিমাকে মারমারা বলে ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে:। এটি মারমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসবের মূল আকর্ষণই হলো মারমা তরুন তরুনীদের দল বেঁধে কল্প জাহাজ (রথ)টানা। এছাড়া পাড়ায় পাড়ায় পিঠা পুলি তৈরীর আয়োজন,নাচ-গানের আসর, পূজা-অর্চনা।
এদিকে বিগত সময়ে করোনার কারণে দীর্ঘ দু’বছর সীমিত আয়োজনে আলীকদমে এই অনুষ্টান পালিত হয়েছে। দীর্ঘদিন পর উৎসব হওয়ায় শত শত মানুষ ভিড় জমায় উৎসবে। পাহাড়ি বাঙ্গালীদের সম্প্রীতির মিলন মেলায় পরিণত হল আলীকদমের মাতামুহুরি নদীর ঘাটে। এবার ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ফানুস বাতি উড়ানো, পিঠা তৈরী, হাজার প্রদীপ প্রজ্জলন ও বিহারে বিহারে পূজা অর্চনা ।
উৎসবে শুধু মারমারাই নয়,অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকজনও আনন্দ-উদ্দীপনা নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। ফলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মিলন মেলায় পরিণত হয় আলীকদম। উৎসব দেখতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এবারও প্রচুর সংখ্যক পর্যটক এসেছে। সন্ধ্যায় উপজেলার মাতামুহুরী নদীতে কল্প জাহাজ (রথ) বির্সজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে এবারের আয়োজন।