মো:ইসমাইল,পানছড়ি (খাগড়াছড়ি)প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়ক হয়ে দমদম এলাকা থেকে ছনটিলা পর্যন্ত চলার সড়কটি যেন জায়গায় জায়গায় ভাঙা আর চলার পরিত্যক্ততে পরিপূর্ণ।
পানছড়ি উপজেলার বৃহত্তর একটি এলাকার মধ্যে ‘দমদম’ এলাকা বেশ সু-পরিচিত।আঁকাবাঁকা এই এলাকার মধ্য দিয়েই যেতে হয় আরো ১০-১২ টি এলাকায়। প্রায় ২০,০০০ মানুষের চলাচল এ রাস্তায়। যেখানে রয়েছে মারমা,পাহাড়ি-বাঙালীর মিলনমেলা। অথচ দীর্ঘ পথের এ সড়কটির বিভিন্ন স্থানে রয়েছে ভাঙা।কোথাও কোথাও তো রাস্তাও নেই। এর ফলে এলাকার জনগন চলাচলের ক্ষেত্রে চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। দুরবর্তী এলাকার মধ্যে রয়েছে ছনটিলা নামক আরো একটি এলাকা।যেখানে রাস্তা নামের বহাল দশায় দিন পার করছে এলাকাবাসী। শুধু ছনটিলা নয় পাশাপাশি প্রতিটি গ্রামই এ পরিস্থিতির শিকার।
মূলত পানছড়িতে দমদম এলাকা হতে ছনটিলা রাস্তায় চলাচল শুরু হয় ১৯৮০ সাল থেকে। তারপর ১৯৯১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নের জন্য বহুবার আবেদন করা হয়। অবশেষে এমপি মহোদয় সর্বপ্রথম ২০১৯ সালে ডিও-লেটার প্রদান করেন।এবং জেলা এলজিইডি-র এক্সেন কর্মকর্তাকে ফোন করে বলেন- জুন ফাইনালের বিশেষ বরাদ্দ্যে যেন সড়কটির কাজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু কোন কারনে এখনো অবদি সড়কটির কাজ শুরুই হয় নাই এ নিয়ে সাধারন জনগনের মনে আক্ষেপ। জনগনের একটাই প্রশ্ন- চাঁদার কারনে কি কাজ বন্ধ! নাকি এমপি মহোদয় ডিও-লেটার ফেরত নিয়ে গেছেন।
স্থানীয় ব্যক্তিবর্গদের থেকে জানা যায়, পানছড়ির বৃহত্তর একটি এলাকা হলো দমদম এলাকা। আর এ এলাকার ভেতর দিয়ে আরো দশ-বারোটি টি এলাকায় যেতে হয়। পথিমধ্যে ছনটিলা যাওয়ার রাস্তা পুরোপুরি অকেজো।বহু বছর ধরে রাস্তার এ বহাল দশা। অথচ কোনো কাজ হয়নি এই রাস্তায়। আমরা খুবই নাজেহাল অবস্থায় আছি।এর ফলে অর্থনৈতিক ভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা এলাকাবাসীরা। কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে আসতে রাস্তার বহাল দশায় রোগীর অবস্থা আরো খারাপ দিকে চলে যায়। শিক্ষার্থীরাও এ রাস্তায় চলাচলে প্রতিনিয়ত ব্যাপকভাবে বাঁধা সম্মুখীন হয়।
ঐ এলাকার ভাড়ায় চালিত সিএনজি চালকরা জানান, ছনটিলা সহ বাকি এলাকাগুলিতে যাওয়ার রাস্তা এতোটাই খারাপ যা বলার বাহিরে।আমাদের গাড়ি নিয়ে চলাচল করতে হয়ে ভয়ে ভয়ে।কখন না জানি উল্টে পড়ে যাই।বহুবার গাড়িসহ যাত্রীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ারও ঘটনা রয়েছে।আমরা সরকারের কাছে দাবী জানাই আর অবহেলা না করে দীর্ঘ যুগের পরিত্যক্ত এ রাস্তাটি যেন সংস্কার করা হয়।
পানছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে দমদম-ছনটিলা সড়ক উন্নয়নের জন্য বহুবার আবেদন করা হয়। অবশেষে এমপি মহোদয় ২০১৯ সালে ডিও-লেটারে বাজেট করেন এবং জেলা এক্সেন কর্মকর্তাকে ফোন করে বলেন জুন ফাইনালে যে বিশেষ বরাদ্যে সড়কটির (দমদম-ছনটিলা) কাজ শুরু করে। ডিও-লেটার প্রদান করার সময় পানছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মোমিন সহ সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলো।তারপর দিন জেলা এলজিইডি অফিসে পানছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা গেলে এক্সেন অফিসার কাজটি খুব দ্রুত করার আশ্বাস দেন। ২ বছরের উপরে হয়ে গেলো কাজ এখনো শুরু হচ্ছে না। প্রকোশলী অরুন কুমার থেকে জানতে পারি তদবির না থাকায় অনুমোদন আসে নাই। আমার প্রশ্ন হলো যেখানে এমপি মহোদয় নিজে বলেছেন কাজটি যাতে বিশেষ বরাদ্যে খুব দ্রুতই সম্পন্ন করা হয়, সেখানে এমপি মহোদয়ের কথা বাদ দিয়ে আবার কিসের তদবির খোজা হচ্ছে। কোন অজানা কারনে এখনো পর্যন্ত রাস্তাটির কাজ শুরু করা হচ্ছে না তা সাধারন জনগন জানতে চায়।
উপজেলা প্রকোশলী অরুন কুমার দাশ বলেন, এমপি মহোদয়ের ডিও-লেটার পিডি স্যারের কাছে পাঠানো হয়েছে।তদবির না থাকায় অনুমোদন আসে নাই।অনুমোদন আসলেই কাজ শুরু হবে।