পার্বত্য রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলাতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় গিয়ে পৌঁছেছে।দলীয় কোন্দল মেটাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের পুর্নাঙ্গ কমিটি করার অভিপ্রায়ে গঠিত আহবায়ক কমিটি মেয়াদবিহীন হয়ে নিজেদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের দরুন অনেকটাই সমালোচিত হয়ে আসছে।বর্তমানে সংগঠনের উন্নতির চিন্তা বাদ দিয়ে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনেকের নজর এখন জেলা পরিষদ ও উন্নয়ন বোর্ড থেকে দলের ব্যানার দেখিয়ে বিভীন্ন প্রকল্প ও বরাদ্ধ হাতিয়ে নেয়া।ইতিমধ্যেই তারা উভয়ক্ষেত্রে উন্নয়নের নামে নিজেদের আখের গোছাতে দুটি বিশাল উন্নয়নের তালিকাও জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।কিন্তু নিয়মঅনুযায়ী উক্ত প্রকল্পসমুহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও ঠিকাদারের মাধ্যমে সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।কিন্তু দলের প্রভাব খাটিয়ে এরা কখোনো সখোনো জনপ্রতিনিধিদের সাক্ষর জাল করে ইচ্ছেমত করে পাশ করিয়ে নিচ্ছেন এসব বরাদ্দ।বিগত ৩ মাসে তারা জেলা পরিষদ থেকে ২৫ ও ২৮ টনের দুটি বরাদ্ধ এভাবেই হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা যায়।যার ছিটেফোঁটাও পায় সাধারন কর্মীরা।
এছাড়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি, সাধারন সম্পাদক,সাংগঠনিক সম্পাদক ও দপ্তর সম্পাদকসহ বেশ কিছু নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের উপজেলা ও ইউপি সম্মলনকে কেন্দ্র করে প্রায় দেড় বছর আগেই যুবলীগের পদগুলো থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।তাই অনেকটা নিষ্কৃয় হয়ে আছেন সংগঠনটি।অন্যদিগে আরেক সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের অবস্থা আরো নাজুক।৯ সদস্য বিশিষ্ট উক্ত কমিটি বিগত সময়ে প্রশংসার থেকে সমালোচিত হয়েছে অনেক বেশী।১ বছর মেয়াদে হওয়া উক্ত কমিটির অন্তর্ভুক্ত ভুষনছড়া, আইমাছড়া,বরকল ও সুভলং ইউনিয়নের মেয়াদবিহীন একটি কমিটিও পুণঃগঠন করতে পারে নাই তারা।নিজ উদ্যোগে এখন পর্যন্ত একটি সভাও আয়োজন করতে পারেনি উক্ত কমিটি।
এ বিষয়ে আইমাছড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মো আরিফুল ইসলাম সিপন,সুভলং ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি রাহাত তালুকদার,বরকল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি রাজেশ কর্মকার,এবং ভুষনছড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ সভাপতি মো ফারদিন ইসলাম সাহল যৌথ বিবৃতিতে জানান,বিগত দুই বছরে পুরোটাই ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছে উক্ত কমিটি।সভাপতিসহ উক্তনসংশ্লিষ্ট কমিটির কেউই কখোনো ইউনিয়ন কমিটিগুলোর সাথে কোনরকম সমন্বয় করে নাই।একটা বর্ধিত সভা পর্যন্ত তারা আয়োজন করতে পারে নাই।তাদের দ্বারা অত্র ইউনিয়নগুলি আজ অবধি কোন সহায়তা পায় নি।
এ বিষয়ে অত্র উপজেলা কমিটির যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মো এনায়েত আকন জানান,ব্যার্থ একটা কমিটি পেয়েছে বরকল উপজেলা ছাত্রলীগ। মেয়াদ উর্তীন্নের ১ বছর পার হলেও পূনাঙ্গ করতে পারেনি কমিটি তারা।উক্ত কমিটির ১ বছর মেয়াদ থাকলেও মেয়াদ শেষ হয়ে এখন ২ বছরে পড়েছে।
অযোগ্য সভাপতির অযোগ্য নেতৃত্ব আর তার নিজের পকেট ভারি করার নিতির দরুন বরাবরই বিতর্কিত হচ্ছে উক্ত কমিটি।
২বছরে পারেনি একটি মতবিময় সভা/ বর্ধিত সভা করতে। ইউনিয়নগুলোরও বেহাল দশা। ৪ টি ইউনিয়নের প্রায় সবগুলোই অকেজো। ইউনিয়নের দিকে তাদের কোন খোজ নাই। আমরা আশা করছি,
রাংগামাটি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতিও সাধারণ সম্পাদক মহোদয়গন মেয়াদবিহীন বরকল উপজেলা ছাত্রলীগ কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন নেতৃত্বের আনার সুযোগ করে দিবেন।
এ বিষয়ে উক্ত উপজেলা কমিটির সাধারন সম্পদক এবং জেলা ছাত্রলীগের সদস্য মো নুরনবী হোসাইন জানান,আমরা ইতিমধ্যেই উপজেলা কমিটি পুর্নাঙ্গ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু কিছু বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীদের উক্ত কমিটিতে শুরু থেকে অন্তভুক্ত করার জন্য সহযোগী সিনিয়র সংগঠনের কিছু নেতাদের চাপ থাকায় আমি এখোনো বিতর্কের বাইরে গিয়ে ত্যাগীদের মুল্যায়ন করতে পারছি না।তাছাড়া এখন পর্যন্ত সিনিয়র সংগঠন আমাকে তেমন কোন সুযোগ করে দেয় নি যাতে আমি আমার উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মিদের দাবীগুলো পুরন করতে পারি।তবুও আমি আমার সাধ্যমত আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু সহযোগীদের সহযোগীতা না পাওয়ার কারনে সেটা সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে উক্ত কমিটির সহসভাপতি মো ওসমান বলেন,অনেকটা ব্যার্থতার মধ্য দিয়েই দুটি বছর অতিবাহিত করলাম আমরা।সভাপতিসহ সংশ্লিষ্টদের ইচ্ছে থাকলে আগামীতে সকল ভুলগুলো শুধরে এগিয়ে যাবে বরকল উপজেলা ছাত্রলীগ।